8.6 C
New York
Saturday, November 28, 2020
Home ধর্ম খেয়াল রাখবেন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতি যেন অবিচার না হয়

খেয়াল রাখবেন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতি যেন অবিচার না হয়

শিক্ষামন্ত্রী ৭ অক্টোবর ২০২০ ঘোষণা দিয়েছেন যে, করোনা ভাইরাস এর কারণে এবছর এইচএসসি পরীক্ষা হবে না। পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীদের ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচাতে, তাদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য এবং এক বছর যাতে পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে জেএসসি/সমমান ও এসএসসি/সমমান এই দুই পরীক্ষার রেজাল্টের গড় করে এইচএসসির ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই।

তবে আজ ৮ অক্টোবর গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে একটি প্রশ্ন উঠেছে, যারা মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশের পর কলেজে ভর্তি হয়েছে সেসকল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে? তাদেরও কি পূর্বের দুটি রেজাল্টের গড় করা হবে নাকি অন্যকোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে? এ বিষয়টি নিয়েও ভাবতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের এমনটি উঠে এসেছে ঐ প্রতিবেদনে।

এজন্য আমিও দু একটি কথা লিখতে বসেছি। যারা মাদ্রাসা থেকে কলেজে ভর্তি হয়েছে তাদের নিয়ে একটু আলাদা করে ভাবার মানে হল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অযোগ্য বলে গণ্য করার চেষ্টা, তাদের নাম্বার কম দেওয়া হবে বিষয়টি এমন হবে বলে আমার ধারণা। এছাড়া আর কিছু নয়। আর এজন্য আমি বলতে চাই, আমি ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১০ শ্রেণি অর্থাৎ দাখিল পর্যন্ত মাদ্রাসায় পড়েছিলাম। এরপর আমি কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম। দাখিলে আমার রেজাল্ট ভালো ছিল। কলেজে আমার সহপাঠীদের মধ্যে আরও দুইজনের রেজাল্ট ভালো ছিল মানে এসএসসিতে ভালো রেজাল্ট করেছিল। ওরা দুইজন স্কুল থেকে আর আমি মাদ্রাসা থেকে ভর্তি হয়েছিলাম। এরপর এইচএসসি পরীক্ষায় এই তিনজনের মধ্যে শুধুমাত্র আমি একা আবার ভালো রেজাল্ট করি এবং কোচিং ছাড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের “খ” ইউনিটে ১৯২২ তম ও “ঘ” ইউনিটে ২০২ তম সিরিয়াল অর্জন করি। অথচ ওরা দুইজন এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্টও করতে পারেনি এবং কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েও চান্স পায়নি। কলেজে পড়াকালীন আমাকেও কখনো কখনো শুনতে হয়েছে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এমনি এমনি ভালো রেজাল্ট করে।
শুধু আমি না আমাদের কলেজ (মাতৃভাষা ডিগ্রী কলেজ) থেকে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ৯৪তম সিরিয়াল যে ছেলেটি অর্জন করেছে ঐ ছোট ভাইটিও মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশের পর কলেজে ভর্তি হয়েছিল এবং কলেজেও ভালো রেজাল্ট অর্জন করেছিল। এর আগে আরেক বড় এরকমভাবে দাখিল পাশের পর আমাদের কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন এবং সেখানেও ভালো রেজাল্ট করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং এবছর স্নাতকত্তোর শেষ করেছেন। আমার পরিচিত আরও অনেকে আছেন যারা দাখিল, মাদ্রাসা থেকে সম্পন্ন করে কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ভালো রেজাল্ট করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন/পড়ছেন।

মাদ্রাসায় পড়েছি তাই ভালো রেজাল্ট করতে পারবো না কলেজে, এমন চিন্তা থেকে আমাদের যদি একটা রেজাল্ট ইচ্ছেমত দেয়া হতো তাহলে আপনারাই বলুন সেটি কি আমাদের জন্য বৈষম্য বা অবিচার করা হতো না? কিংবা এখনও যদি করা হয় সেটি কি অবিচার করা হবে না? তাই আবারও বলছি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতি যেন কোনোরকম অবিচার না হয়।

আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরও অনেক বড় রকমের অবিচারের শিকার হয়েছি। কারণ আমি যে প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে চান্স পেয়েছি অন্যরাও সে প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে চান্স পেয়েছে অথচ আমার দাখিল আর তাদের এসএসসি হওয়ায় আমাকে বাংলা সাবজেক্ট দেয়া হয়নি কন্ডিশন পূরণ করার পরও। কেননা আমার শুধুমাত্র দাখিলে ২০০ নাম্বার করে বাংলা ও ইংরেজি ছিল না। কিন্তু কলেজে থাকা সত্ত্বেও এবং একই প্রশ্নে চান্স পাওয়া সত্ত্বেও আমার উপর এই অবিচার করা হয়েছে। শুধু আমার উপর না আমার মতো আরও কত শত শিক্ষার্থীর প্রতি তার হিসেব নেই। যদিও এখন নিয়মের পরিবর্তন করা হয়েছে সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাই। তবে নতুন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যেন অবিচার করা না হয়।

আর একটি কথা বলতে চাই, এবছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্টের উপরে নম্বর থাকার পদ্ধতি বাতিল করা এবং অল্প নম্বরের একটি পরীক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নেয়া উচিত। যেহেতু এবছর এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট ভিন্নভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে।

পরিশেষে, যে কথাটি বলতে চাই মাদ্রাসায় পড়লেই সে কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে অযোগ্য, তা ভাববেন না। কোনো প্রকার ট্যাগ দেয়ার চেষ্টা করবেন না। কোনো ট্যাগ দেয়ার আগে তার সম্পর্কে জেনে নিবেন। পৃথিবীতে মানুষকে মেরে আহত করার চেয়ে মানুষ বড় রকমের আহত হয় কারও কথার আঘাতে যদি কারও সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলা হয়। যেসকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রগতিশীল দাবি করেন আপনাদের উচিত প্রগতিশীলতার পরিচয় দেয়া। দাঁড়ি রাখলেই, মাদ্রাসায় পড়লেই শিবির-জঙ্গী হয়ে যায় না। আমি ১০ নং মঠেরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সমাপনী, রায়েন্দা রাজৈর ফাজিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং মাতৃভাষা ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগে পড়ছি। এইচএসসি পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলাম না। আমার পরিবারও রাজনীতিকে ভয় পায়। আমি সাধারণ পরিবারের সন্তান। তারাও কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়, তাদের এর প্রতি কোনো আগ্রহও নেই, তাদের কাছে পেট বাঁচানো ফরজ। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর বাধ্য হয়ে ছাত্রলীগ এর সাথে যুক্ত হয়েছি। আমার ইচ্ছে ছিল, জীবনে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত হব না। জীবনে একটি মাত্র সংগঠনের সাথে যুক্ত হওয়ার পরও আমাকে অনেকবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খারাপ শব্দ শুনতে হয়েছে। যেটি আমাকে মর্মাহত করেছে বহুবার। বর্তমানে সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত আছি। কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত নই। আমার মতো আর কাউকে ট্যাগ দেয়ার চেষ্টা করবেন না। জেনে শুনে কথা বলবেন এটি অনুরোধ। আর তা না হলে একদিন না একদিন সৃষ্টিকর্তার শাস্তি ভোগ করতে হবে। কেননা তিনি সবসময় ন্যায়বিচার করেন।

লেখকঃ মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, কবিতা লেখক ও সাংবাদিক। পড়াশোনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সহ-সম্পাদক, দ্যা ডেইলি নিউজ ফ্রন্ট।

Most Popular

সরকারি শামসুর রহমান কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে শিক্ষকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মোঃ মহসিন মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার: শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলায় গোসাইরহাট সরকারি শামসুর রহমান কলেজে ছাত্র ছাত্রীদের সাথে শিক্ষকদের মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার...

যোগ্য প্রার্থীরাই মনোনয়ন পাবে বললেন বাহাউদ্দীন নাসিম

শুভ শেখ, কালকিনি, মাদারীপুর প্রতিনিধি: যারা আওয়ামী লীগের সম্মান নষ্ট করবে, আওয়ামী লীগের বিপক্ষে কাজ করবে, আওয়ামী লীগের পক্ষে থেকে আওয়ামী লীগের ক্ষতি করবে...

কোদালপুরে ফ্রান্সের সরকারকে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা

মোঃ মহসিন মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার: শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের বালুরচর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ হতে ফ্রান্স সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ...

নিরাপত্তাহীনতায় নুরুল হক নুর

ডেস্ক: নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নিজের ব্যক্তিগত ফেইসবুক পেইজে এমনটি জানিয়েছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর। তার স্ট্যাটাসটি...

Recent Comments